সম্প্রতি ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল কতৃক মহানবী হযরতমুহাম্মদ (সা.) ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.) কেসম্প্রতি নিয়ে চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদ ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচির: অংশ হিসেবে, ভারতীয় পণ্য বয়কট এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিন্দা প্রস্তাব ও প্রতিবাদ জানানোর দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন। নেতৃবৃন্দরা বলেন, ভারতের এই ঘটনা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছে। এমন জঘন্যতম অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিশ্বনবীর অবমাননার ঘটনা অসভ্যতাকেও হার মানিয়েছে। ভারত সরকারকে এর চরম মূল্য দিতে হবে।

নবী (সঃ) ও তার পরিবারের শানে এহেন অসভ্য কর্মকাণ্ডের জন্য সৌদী আরব, ওমান, বাহরাইন, জর্ডান,লিবিয়া,আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার, কুয়েত, ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম বিশ্ব রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানালেও বিশ্বের অন্যতম মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ জানানো হয়নি। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে এর প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও উম্মাহাতুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযি.)-কে নিয়ে চরম অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (১০ জুন) বিকাল ৪ টায় মহানগরীর নিউমার্কেট বাইতুন নূর মসজিদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ’র সভাতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, জেলা সেক্রেটারী হাফেজ আসাদুল্লাহ আল গালিব এর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন এ ঘটনায় ভারত সরকারকে মুসলিম উম্মাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকান্ড যেন করতে না পারে সে জন্য বিশ্ব মুসলিমকে সজাগ থাকতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, মুসলমানরা তাদের নবীকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। বিশ্বনবীর মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা জীবন দিতেও কুণ্ঠিত হবো না। বীরের জাতি মুসলিমরা জেগে ওঠলে ভারতকে উচিত শিক্ষা দেয়া হবে। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও নবী (সঃ) এর মর্যাদা রক্ষা করবো, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, মহানগর সহ-সভাপতি মুফতি মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আবু সাইদ, মাওলানা মুজিবুর রহমান, ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ, খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দিন কাসেমী, মাওঃ কেরামত আলী, শেখ হাসান ওবায়দুল করিম, মুফতি ইমরান হোসাইন, আলহাজ্ব মাওলানা দ্বীন ইসলাম, মুহা. সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আসাদুল্লাহ হামিদি, মুফতী আশরাফুল ইসলাম, মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, গাজী ফেরদাউস সুমন, মাওলানা হারুন অর রশিদ, মাওলানা এস.কে নাজমুল হাসান, মুফতী শেখ আমীরুল ইসলাম, এইচ এম খালিদ সাইফুল্লাহ, আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, হাফেজ আব্দুল লতিফ, আলহাজ্ব আবু তাহের, মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, নিজাম উদ্দিন মল্লিক, মোঃ মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা হাফিজুর রহমান, হায়দার আলী, জিএম কিবরিয়া, আলহাজ্ব সরোয়ার হোসেন বন্দ, মাওলানা মাসুম বিল্লাহ আলহাজ্ব শফিউল ইসলাম, মুফতি আব্দুর রহমান, মোল্লা মিরাজুল ইসলাম, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি রবিউল ইসলাম রাফি, জেলা সভাপতি মাওলানা শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, মাওলানা এমদাদুল হক, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন খুলনা মহানগর সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, জেলা সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, নগর সাধারণ সম্পাদক জিএম মুরাদ হোসেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি হেলাল উদ্দিন শিকারি, ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কাশেম, জেলা সভাপতি মোঃ মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতী ফজলুল হক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন, জেলা সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হাসান সাঈদ, ইব্রাহিম ইসলাম আবির, মোঃ আবু রায়হান, নগর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরহাদ হোসেন, মুফতী জুনাইদ মাহমুদ, মুফতী হাবিবুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।